ই-পেপার/প্রিন্ট ভিউ
মোঃ আঃ মান্নান, তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ):
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার টাঙ্গুয়ার হাওরে সম্প্রতি উদ্বোধন হওয়া ‘ভাসমান বাজার’ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে চলছে তীব্র সমালোচনা। কেউ একে অপ্রয়োজনীয় বলছেন, আবার কেউ আশঙ্কা করছেন—এতে হাওরের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়তে পারে।
স্থানীয় সাংবাদিক সৈকত হাসনের একটি ফেসবুক পোস্টে মন্তব্য করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন একাধিক ব্যবহারকারী।
ঝিনুক তালুকদার মন্তব্য করেন, “তাহিরপুর ফুটবল মাঠের সাথে যে রাস্তা আছে, সেটা ঠিক করলে সাধারণ মানুষের উপকারে আসবে। ভাসমান বাজারের কোনো দরকার নাই। টাঙ্গুয়ার হাওরে আজাইরা।”
মো. ওবায়দুল হক সরাসরি অভিযোগ করে লেখেন, “প্লাস্টিক ও চিপসের প্যাকেট আরও বেশি পড়ছে পানিতে।” তার মন্তব্যের জবাবে সৈকত হাসান বলেন, “এ বিষয়ে আপনার একটা বক্তব্য লাগবে ভাই, ইনবক্সে প্লিজ।”
সাইফুল্লাহ ফারাবি মন্তব্য করেন, “আরও বেশি এক্সট্রা প্যাকেট ও প্লাস্টিক এগুলো পানিতে জমবে। মালের দাম তো আরও বেশি থাকবে, এটা আরও বড় সিঁধ কাটবে তখন।”
তবে এই সমালোচনার মাঝেও কেউ কেউ উদ্যোগটিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন এবং স্থানীয় পণ্যের প্রসারে নতুন সম্ভাবনা হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন।
এসব প্রতিক্রিয়ার প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুল হাশেম নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন। এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি লিখেন, “ভাসমান বাজার নিয়ে অনেকেই ভুল ধারণা করছেন। এটি মূলত স্থানীয় জনগণের বিকল্প আয়ের উৎস তৈরির একটি ‘নিউ কনসেপ্ট’। এখানে চিপস বা প্লাস্টিক মোড়কে খাবার বিক্রির সুযোগ নেই। বিক্রি হবে ফলমূল, সবজি, পিঠার মতো পরিবেশবান্ধব পণ্য।”
তিনি আরও বলেন, “গোলাবাড়ি ও জয়পুর এলাকার বাসিন্দারা আগে প্লাস্টিক মোড়কে পণ্য বিক্রি করতেন। এখন তাদের উৎসাহিত করা হচ্ছে প্লাস্টিকবিহীন খাবার বিক্রির দিকে। এ উদ্যোগে প্রশাসন কেবল দিকনির্দেশনা দিচ্ছে, পণ্য সংগ্রহ ও বিক্রির কাজ করবেন স্থানীয়রাই।”
প্রশাসনের দাবি, এই উদ্যোগের মাধ্যমে টেকসই পর্যটনের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। তবে সচেতন উদ্যোগ বাস্তবায়নের আগে পরিবেশগত প্রভাব বিবেচনার উপর জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা.